Posts

ভালোবাসার দাম

Image
  একটা শহরের প্রাথমিক স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষিকা,যাঁর অভ্যাস ছিল তিনি ক্লাস শুরু হওয়ার আগে রোজ "আই লাভ ইউ অল্" বলতেন l কিন্তু তিনি জানতেন,তিনি সত্য বলছেননা lতিনি জানতেন ক্লাসের সবাইকে একরকমভাবে তিনি ভালবাসেন না l ক্লাসের রাজু নামে একটা বাচ্চা যাকে তিনি মোটেও সহ্য করতে পারতেননা lরাজু ময়লা জামাকাপড়ে স্কুলে আসত।তার চুলগুলো থাকত উষ্কো-খুষ্কো , জুতোর বকলস্ খোলা,শার্টের কলারে ময়লা দাগ ....ক্লাসে পড়া বোঝানোর সময়ও সে ছিল খুব অন্যমনস্ক l মিসের বকুনি খেয়ে সে চমকে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকত l কিন্তু তার শূন্য দৃষ্টি দেখে স্পষ্ট বোঝা যেত যে রাজু শারীরিকভাবে ক্লাসে উপস্থিত থাকলেও তার মন অন্য কোনখানে উধাও হয়ে গেছে, ধীরে ধীরে রাজুর প্রতি মিসের মনে ঘৃণার উদ্রেক হলো l ক্লাসে ঢুকতেই রাজু মিসের সমালোচনার শিকার হতো l সবরকম খারাপ কাজের উদাহরন রাজুর নামে হতে থাকল l বাচ্চারা তাকে দেখে আর খিলখিল করে হাসে, মিসও তাকে অপমান করে আনন্দ পান l রাজু যদিও এইসব কথার কোনও উত্তর দিতনা l মিসের তাকে নিষ্প্রাণ পাথর বলে মনে হতো যার মধ্যে অনুভূতি নামে কোন জিনিস ছিলনা l সমস্ত ধমক, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ আর শাস্তির জবাবে সে...

চেঙ্গিস খানের পশ্চিম দিকে যাত্রা

Image
  পামির মালভূমি এশিয়ার পূর্ব এবং পশ্চিমের মাঝখানে দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল হাজার হাজার বছর ধরে। চেঙ্গিস খান তাই মঙ্গোলিয়া এবং তার চারপাশে অর্থাৎ গোবী মরুভূমি এলাকায় তার সাম্রাজ্য বিস্তারে ব্যস্ত ছিলেন। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তিনি জানতেনও না পর্বতের ওপারে কী আছে। ক্যাথি জয় করার পর তার আত্মবিশ্বাস সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ঠিক এই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম আরব থেকে আগত বণিকদের মাধ্যমে পশ্চিম সম্পর্কে অবগত হন। এসব আরব বণিকরা বাণিজ্যের আশায় বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পামির মালভূমির উত্তর দিক দিয়ে সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উত্তর-পূর্ব দিকের গোবীর সমতলে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে যেত। চেঙ্গিস খান মুসলমান ব্যবসায়ীদের তার সাম্রাজ্যের পণ্য নিয়ে পশ্চিমে আরব দেশে ব্যবসায়ের জন্য পাঠাতেন। পামিরের পার্বত্য এলাকায় তখন অবস্থান করছিলেন চেঙ্গিস খানের দূরদর্শী সেনাপতি খেপ নয়ন। চেঙ্গিস খান তাকে বললেন পর্বতের ভেতর দিয়ে কীভাবে পশ্চিমে যাওয়া যায় তার পথ বের করতে। খেপ নয়ন তাকে জানালেন পর্বতের ভেতর দিয়ে ওপাশে যাওয়ার দুটো পথ আছে। চেঙ্গিস খান খবর নিয়ে জানতে পারলেন পর্বতের ওপারে আরেকজন বিশাল ক্ষমতাধর শাসক রয়...

ক্ষুদ্র কোরআন শরিফের প্রাচীন কপির সন্ধান

Image
  কুমিল্লায় ক্ষুদ্র আকারের পবিত্র কোরআন শরিফের প্রাচীন কপির সন্ধান পাওয়া গেছে। দাবি করা হচ্ছে, এটি দেশের অন্যতম প্রাচীন ক্ষুদ্র কোরআন শরিফ। এটি বংশ পরম্পরায় সংরক্ষিত আছে নগরীর তালপুকুর এলাকার পরিবহন ব্যবসায়ী জামিল আহমেদ খন্দকারের কাছে। কোরআন শরিফের দৈর্ঘ্য দেড় ইঞ্চি, প্রস্থ এক ইঞ্চি ও পুরো এক ইঞ্চির চার ভাগের এক ভাগ। ছাপার অক্ষরের কোরআন শরিফটি খালি চোখে পড়া কঠিন। এটি আতশিকাচের নিচে রেখে পড়া যায়। সেকালের জন্য এটি ক্ষুদ্র আকারের হলেও মুদ্রণ শিল্পের উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে এরচেয়ে আরও ছোট আকারের কোরআন শরিফ পাওয়া যায়। যা অনেকে গলায় মাদুলির মতো ব্যবহার করেন। জামিল আহমেদ খন্দকার জানান, তার পূর্ব পুরুষরা ইয়েমেন থেকে এদেশে আসেন। তারা কোরআন শরিফটি এনেছেন বলে ধারণা করছি। বংশ পরম্পরায় তার হাতে রয়েছেন। তার ২১ বছর বয়সে বাবা আবদুল মতিন খন্দকার মারা যান। তাই তিনি কোরআন শরিফটি সম্পর্কে জানতে পারেননি। অনেক দিন এটা কোথায় ছিল তা তিনি জানতেন না। সম্প্রতি আলমারিতে এটির খোঁজ পান। ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবির বলেন, কোরআন শরিফটি ৩০০ বছরের আগের হতে পারে। এটি দেশের অন্যতম ক্ষুদ্র প্রাচীন কোরআন শরিফ বলে...

বাবার ১২৫ স্ত্রী, আফ্রিকার এই রাজারও আসক্তি কুমারি নারীতে

Image
  দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ সোয়াজিল্যান্ডে এখনো রাজতন্ত্র বিদ্যমান। সেখানকার শাসনভার রয়েছে রাজার হাতে। বর্তমানে সে দেশের রাজা কিং এমসাতি তৃতীয়। তার স্ত্রীর সংখ্যা ১৬ জন এবং সন্তান ৩৫ জন। তার বাবা সাবেক রাজা সভুজা দ্বিতীয় একশ ২৫ জনেরও বেশি নারীকে বিয়ে করেছিলেন। আর তার সন্তান বর্তমান রাজা ১৯৮৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে রাজা হন।  এরপর এক এক করে ১৬ জন নারীকে বিয়ে করেছেন। প্রতিবারই একজন কুমারি মেয়েকে বিয়ে করছেন তিনি। এর মধ্যে তিনজন স্ত্রীকে ডিভোর্সও দিয়েছেন। জানা গেছে, স্ত্রীদের গর্ভে ৩৫ জন সন্তান জন্ম নিয়েছে। রানি বেছে নেওয়ার নিয়মাও রয়েছে সে দেশে। দেশের সমস্ত কুমারি মেয়েদের প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় রানিদের থাকার জায়গা লুদজিদিনি রয়্যাল রেসিডেন্সে। তারপর সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় এনগাবেজওয়ানি রয়্যাল রেসিডেন্টস-এ। পরবর্তী সময়ে এমবাবানের রয়্যাল প্যালেসে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য প্যারেডের। সেখানে কুমারীত্বের প্রতীক হিসেবে ছুরি হাতে অংশ নেন কুমারি নারীরা।  অনুষ্ঠান দেখতে আসা অতিথি এবং রাজার সামনে পদযাত্রায় অংশ নেন তারা। এরপর রাজা তাদের মধ্য থেকে একজনকে নতুন রানি হিসেবে বেছে নেন। আজব মনে হলেও গোটা দেশে...

বাংলাদেশে রেলওয়ের ইতিহাস (প্রথম পর্ব): ভারতবর্ষে রেলওয়ের আগমন

Image
ধরুন, আপনি দূরে কোথাও ভ্রমণে যাবেন। এই দীর্ঘ ভ্রমণের বিরক্তিকর সময়টা উপভোগ্য করার জন্য সাথে করে কিছু বই নিলেন, বাসের মধ্যে বসে পড়বেন বলে। কিন্তু যাত্রাপথে ইট-পাথুরে সড়কের ধুলাবালি, চিৎকার-চেঁচামেচি, গাড়ির হাইড্রোলিক হর্নের তীব্র শব্দ আর দূষিত কালো ধোঁয়া আপনার সব পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিল। বই পড়া তো দূরে থাক, একটু পরপর গাড়ির শক্ত ব্রেকের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতেই বেগ পেতে হচ্ছে। অথচ রেলের কথা ভাবুন, দিগন্তবিস্তৃত সবুজ মাঠের মাঝখান দিয়ে ঝকঝক রব তুলে ছুটে চলেছে ট্রেন। ট্রেনের জানালা খুলে দিতেই প্রকৃতির স্নিগ্ধ শীতল হাওয়া আপনার হৃদয়ে পরশ বুলিয়ে দিল, হাতে একখানা শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের বই আর এক হাতে চায়ের কাপ, যাত্রাপথে এর চেয়ে উপভোগ্য সময় আর হতে পারে না। বই পড়ার ফাঁকে ফাঁকে জানালা দিয়ে চোখ বোলালেই সবুজের ওপারে আবছা গ্রামগুলো দেখা যায়। কখনও সবুজ ধানের মাঠ, কখনও সারি সারি খেজুর গাছ, কখনও আঁকাবাকা গ্রামীণ মেঠো পথ, কখনও সর্পিলাকার নদী, কখনও আবার বিলের বিস্তৃত জলরাশি; সবকিছুই উপভোগ করা যায় ট্রেনে চড়ে।যাত্রীবান্ধব বাহন হিসেবে রেলের সুনাম সেদিন থেকেই, যেদিন থেকে পৃথিবীর বুকে রেলগাড়ি চলতে শুরু করেছে। ...

মসনদ-ই-আলা ঈশা খান: উত্থান

Image
৮৯৯ হিজরী অর্থাৎ, ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দের কথা বলছি। হাবশী দাস সুলতানদের শাসনের ফলে বাংলা রাজনৈতিক অবস্থা তখন বেশ টালমাটাল এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে মাহমুদ শাহী বংশের শেষ সুলতান ফতেহ শাহকে হত্যা করে বাংলার মসনদে বসে পড়েন তারই হাবশী দেহরক্ষী সুলতান শাহজাদা বারবক। পরবর্তী ছয় বছরে মোট চারজন হাবশী সুলতান বাংলা শাসন করেন। যদিও মাঝে দুই/একজন সুলতান বেশ যোগ্যতাসম্পন্ন ছিলেন, তারপরেও হাবশী শাসনামলে বাংলার রাজদরবার ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা আর সুলতান হত্যার এক ঘূর্ণিপাকে আবর্তিত হচ্ছিল, যার প্রভাব পড়ে পুরো সাম্রাজ্যের উপর। বাংলার চরম এই রাজনৈতিক ক্রান্তিলগ্নে মশালের আলো হয়ে দেখা দিলেন একজন ব্যক্তি। হাবশী দুঃশাসন বিতারিত করে তিনি বাংলায় শান্তি কায়েম করলেন। তিনি হোসেন শাহী বংশের প্রথম সুলতান আলা-উদ-দুনিয়া ওয়াল-দীন আবুল মুজাফফর হোসেন শাহ। তার সুদক্ষ শাসনব্যবস্থা, বিচক্ষণতা আর দূরদৃষ্টির ফলে অল্প কয়েক দিনেই বাংলায় শান্তি নেমে এলো। ন্যয়বিচার প্রতিষ্ঠা, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম, পরমতসহিঞ্চুতা, শাসনব্যাবস্থা ঢেলে সাজানো আর পরধর্মসহিঞ্চুতার সাহায্যে তিনি খুব সহজেই প্রজাদের মন জয় করে নেন।...

দোলন ভাই ♥ #ধনী_হতে_টাকা_লাগে_না !

Image